টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ধর্ষণের বিচার চেয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে টানা চার দিন অনশন করা এক বৃদ্ধাকে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কলেজ রোড এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা লোকমান হোসেনের কার্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা কাবিনে ওই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের সাক্ষী হিসেবে ছিলেন অভিযুক্ত আরশেদ আলীর ছেলে জুয়েল হোসেন ও তার দুই আত্মীয়।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ, গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দিগলআটা গ্রামের বিধবা শাহিদা বেগমকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে একই গ্রামের কবিরাজ আরশেদ আলীর বিরুদ্ধে।
শাহিদা বেগমের ছেলে হেলাল মিয়ার দাবি, ঘটনার সময় তার মায়ের চিৎকার শুনে নাতি রাসেল ঘটনাস্থলে গিয়ে আরশেদ আলীকে আটক করেন। পরে অভিযুক্তের স্বজনরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে তাকে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হলেও সমাধান না হওয়ায়, গত মঙ্গলবার থেকে অভিযুক্তের বাড়ির সামনে গিয়ে বিচারের দাবিতে অনশন শুরু করেন শাহিদা বেগম। শুক্রবার স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তাকে সেখানে অনশনরত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আরশেদ আলী, তার ছেলে জুয়েল হোসেনসহ কয়েকজন আত্মীয় শাহিদা বেগমকে জোর করে একটি ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে ঘাটাইলের একটি নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারেন স্থানীয়রা।
এদিকে শাহিদাকে না পেয়ে তার ছেলে ও নাতিরা গোপালপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করতে চাইলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি এবং তাদের কয়েক ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
শাহিদার নাতি নাজমুল হোসেনের দাবি, তার দাদীকে চাপ প্রয়োগ করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কাবিননামায় ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্রটিও জাল। স্থানীয় নির্বাচনী অফিসে অনুসন্ধান করে ওই পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আরশেদ আলীর ছেলে জুয়েল হোসেন ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য শাহিদা বেগমকে রাজি করিয়ে ৫০ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা লোকমান হোসেন জানান, গোপালপুর থানার ওসি রুহুল আমিন তাকে ফোন করে গোপালপুর থেকে একটি পক্ষ গেলে দ্রুত বিয়ে ও কাবিন সম্পন্ন করার অনুরোধ করেছিলেন। পরে আরশেদ আলী, তার ছেলে জুয়েল হোসেন ও কয়েকজন আত্মীয় শাহিদা বেগমকে নিয়ে তার কার্যালয়ে আসেন। তাদের দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে কাবিন সম্পন্ন ও বিয়ে পড়ানো হয়। তবে পরে জাতীয় পরিচয়পত্রটি জাল হওয়ার কথা তিনি জানতে পারেন বলে জানান।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহিদা বেগমকে পায়নি। ভুক্তভোগী থানায় না আসায় মামলা নেওয়া হয়নি। কাউকে থানায় আটকে রেখে হয়রানি করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। ভুক্তভোগী মামলা করতে চাইলে যেকোনো সময় মামলা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে একজন বৃদ্ধা নারীর ধর্ষণের অভিযোগ, অনশন, পরবর্তীতে তাকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বিয়ে এবং কাবিননামায় জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি এখন দেখার অপেক্ষায়।
Leave a Reply