ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। আটক হয়েছেন সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংহের মেয়ে যশস্বিনী রাজে সিংহও।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিন্যাস (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিক্ষোভের ডাক দেয় তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড ও স্পাইক স্ট্রিপ।
আটক যশস্বিনী রাজে সিংহ জানান, গুরুদ্বার বাংলা সাহিবের কাছে একটি পার্কে বসে থাকার সময় তাঁকে আটক করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, তাঁকে কেশব পুরম থানায় নিয়ে রাখা হয়েছে। এর আগে জুন ও জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আটক হন চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মধ্য দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ আটক করা হয়। বিক্ষোভস্থলে যেতে বাধা পেয়ে তিনি রাস্তার পাশে বসে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তাঁর মুখে ব্যান্ডেজও দেখা যায়।
আটকের পর মমতা সাংবাদিকদের বলেন, সরকার তাঁদের সঙ্গে অসদাচরণ করছে। জনগণের কণ্ঠস্বর জোরালো করতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নির্ধারিত স্থানে জমায়েত ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিরোধী দলের নেতা ও ছাত্রনেতাদের আটক করা হয়েছে।
Leave a Reply