নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও এলাকায় ‘সুন্দলপুর-৪’ গ্যাসকূপের খনন শেষে মিলেছে গ্যাসের সন্ধান। বর্তমানে কূপটিতে ড্রিল স্টেম টেস্ট—ডিএসটি কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
নোয়াখালীতে গ্যাস অনুসন্ধানের ইতিহাসও দীর্ঘদিনের। বেগমগঞ্জে ১৯৭৬ সালে প্রথম কূপ খনন করা হয়। পরে ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় কূপ এবং ২০১৩ সালে তৃতীয় কূপের সন্ধান মেলে। তৃতীয় কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নোয়াখালীর শাহজাদপুর-সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রে সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ নামে আরও তিনটি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দলপুর-২ থেকে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে; সুন্দলপুর-১ ও ৩-এর উৎপাদন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সুন্দলপুর-৩-এর ওয়ার্কওভার শেষে আবার গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে বাপেক্স।
অর্থাৎ, নোয়াখালীর মাটির নিচে একের পর এক গ্যাসের সন্ধান মিলছে। নতুন কূপেও মিলেছে গ্যাসের সন্ধান। অথচ জেলার অনেক মানুষ এখনো রান্নার জ্বালানি নিয়ে নানা সংকটে রয়েছেন এবং বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১২ কেজি এলপিজির নির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা।
এখন নোয়াখালীবাসীর প্রশ্ন—নোয়াখালীর মাটির নিচ থেকে উত্তোলন করা এই গ্যাসের সুফল কি নোয়াখালীর মানুষও পাবেন?
নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে—এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ বাড়বে, এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যে জেলায় গ্যাসের সন্ধান মিলছে, সেই জেলার শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জ্বালানি সুবিধা বাড়াতে স্থানীয়ভাবে কী পরিকল্পনা রয়েছে—এ প্রশ্নও উঠছে।
নোয়াখালীর মানুষের দাবি, গ্যাসের এই সম্পদকে ঘিরে জেলায় শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করুক।
কারণ প্রশ্ন একটাই—
নোয়াখালীর মাটির নিচে গ্যাস আছে, নতুন কূপেও মিলছে গ্যাস—কিন্তু এই গ্যাসের সুফল নোয়াখালীর মানুষ কতটা পাবেন?
Leave a Reply