বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়ের বিস্তীর্ণ জনপদ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর অভাবে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে ১২টি পাড়ার পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। প্রতিদিন চিনতাবাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাইশপাড়ি সরকারি প্রাথািমক বিদ্যালয় ও বটতলী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বমু খালের পানি পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়।
১৮০ ফুট প্রশস্ত বমু খালের ওপর সেতু না থাকায় দূর্গম চিনতাবা পাড়া, তলইপাড়া, তুলাতলীপাড়া, কচুছড়াপাড়া, ঢেকিছড়াপাড়া, বটতলীপাড়া ও লুলাইং মৌজার কয়েকটি পাড়াসহ মোট ১২টি পাড়ার পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে খালের পানি হেঁটে পার হতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়গামী শিশুরা। বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে পানির স্রোত বেড়ে গেলে বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক যোগাযোগও। তখন একদিকে আটকে পড়ে সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে বিদ্যালয়ে বেড়ে যায় অনুপস্থিতির সংখ্যা।
শুধু শিক্ষা নয়, সেতুর অভাবে কৃষিপণ্য বাজারজাত, চিকিৎসাসেবা, হাট-বাজার, বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ। সর্বক্ষেত্রেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দূর্গম এলাকার বাসিন্দাদের। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ,২০২২ সালের দিকে একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও সেটি আর হয়নি।
দূর্গম চিনতাবা পাড়ার বমু খালের পাড়ে গিয়ে দেখা যায় পাহাড়ি পথ ধরে একে একে খালের পাড়ে জড়ো হচ্ছে স্কুল পোশাক পরা ম্রো শিশুরা। প্রায় সবার হাতেই পলিব্যাগ মোড়ানো বই-খাতা, কারো কাঁধে নেই কোন স্কুলব্যাগ। প্রচন্ড রোদে কেউ বাঁশঝাড়ের ছায়ায় দাড়িয়ে, আবার কেউ বসে আছে। ম্রো শিশুর নিজেদের ভাষায় কথা বলছে। নেই কোনো হৈচৈ কিংবা দৌড়ঝাঁপ, সবাই যেন কারো জন্য অপেক্ষায় আছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালের কোন কোন জায়গায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি থাকে। শিশুরা একা খাল পার হতে ভয় পায়। কোন শিক্ষক বা পথচারী খাল পার হতে এলে তাদের সঙ্গে দল বেঁধে শিক্ষার্থীরাও হেঁটে খাল পার হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেনচিং মুরুং বলেন, বমু খালের ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হয়েছে। একাধিকবার সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ও মাপামাপি করা হয়েছে।
চিনতাবাপাড়া কারবারি লাঙি মুরুং বলেন, প্রতিদিন হাট-বাজার, উপজেলা সদর, অফিস-আদালত কিংবা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে ১২টি পাড়ার মানুষকে দুুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে প্রসূতী মায়েদের নিয়ে চরম বিপদে পড়তে হয়।
গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উচাছিং মার্মা বলেন, বমু খালের ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবন-জীবিকার পথ সহজ হবে।
সেতু নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, বমু খালের ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ডিপিপিতে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন হবে।
Leave a Reply