রায়পুর(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আবাসিক এলাকায় সিমেন্টের ফিলার তৈরির একটি কারখানায় বিকট শব্দ, ধুলাবালি ও ভূকম্পনের মতো কম্পনের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও কারখানাটি অন্যত্র স্থানান্তরের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পরিবেশ অধিদপ্তরের লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকার ২০ জনের অধিক বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আশ্রাফগঞ্জ নতুন বাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগটি দায়ের করা হয়। অভিযোগে কারখানাটির শব্দ ও পরিবেশ দূষণ বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিমেন্টের ফিলার তৈরির সময় কারখানা থেকে বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে কারখানার যন্ত্রপাতি চলার সময় আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয় বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি কারখানাটিতে নতুন একটি মেশিন স্থাপন করার পর শব্দ ও কম্পনের মাত্রা আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতেও স্বাভাবিকভাবে ঘুমানো ও বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবিষয়ে জনসাধারণ প্রতিবাদ করলে জমির মালিক সকলকে ভয়ভীতি ও গালমন্দ করারও অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রাফগঞ্জ নতুন বাজার এলাকাটি মূলত একটি আবাসিক এলাকা। এর আশপাশে রয়েছে মহিলা কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি এনজিও অফিস। এছাড়া কারখানাটির চারপাশে উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম দিকে রয়েছে বসতবাড়ি ও বহুতল ভবন।
এমন একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় শব্দ ও ধুলাবালি সৃষ্টিকারী কারখানা পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কারখানার শব্দ ও কম্পনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।
লিখিত অভিযোগে এলাকাবাসী দাবি করেছেন, তারা জানতে পেরেছেন যে কারখানাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেই। তবে এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটির পরিবেশগত ছাড়পত্র, আবাসিক এলাকায় কারখানা পরিচালনার বৈধতা, শব্দ ও বায়ুদূষণের মাত্রা এবং নতুন মেশিন স্থাপনের অনুমোদনসহ সার্বিক বিষয় তদন্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় এক নারী বাসিন্দা বলেন, “সিমেন্টের ফিলার তৈরির কারখানার অতিরিক্ত শব্দ ও ধুলাবালির কারণে দিনে-রাতে শিশু ও বৃদ্ধসহ আমরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। কারখানাটি অন্যত্র স্থানান্তর করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, আবাসিক এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কারখানাটি পরিদর্শন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে শব্দ, ধুলাবালি ও কম্পনের মাত্রা পরীক্ষা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, কারখানাটি যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে কারখানা মালিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের মতে, আবাসিক এলাকায় শিল্পকারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ এবং জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে কোনো কারখানা পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি থাকা জরুরি।
এলাকাবাসী বলছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে কারখানাটির বৈধতা, পরিবেশগত ছাড়পত্র, শব্দ ও বায়ুদূষণের মাত্রা এবং নতুন মেশিন স্থাপনের অনুমোদন যাচাই করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রম প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply